লেবানন ও ইসরাইল একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তির খুব কাছাকাছি রয়েছে। সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, দুই একদিনের মধ্যে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসতে পারে। লেবাননে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমান্যুয়েল  ম্যাক্রোঁ।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কর্মকর্তারা চূড়ান্ত সবুজ সংকেত দেননি। এমন এক সময়ে দুই পক্ষ এ যুদ্ধবিরতির দিকে এগোচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় ফিরতে যাচ্ছেন। ট্রাম্প তাঁর নির্বাচনী প্রচারণায় যুদ্ধ বন্ধের বিষয়টি সর্বাগ্রে রেখেছিলেন। তিনি ২০ জানুয়ারি শপথ নেবেন।

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত মধ্য সেপ্টেম্বর থেকে লেবাননে ইসরায়েল হামলা শুরু করলে এ পর্যন্ত তিন হাজারের বেশি মানুষ নিহত হন। আহত হয়েছেন আরও কয়েক হাজার। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মুখপাত্র মার্কিন গণমাধ্যমটিকে জানান, তারা চুক্তির দিকেই এগোচ্ছেন। তবে এখনও কিছু বিষয়ে ঐকমত্যের প্রয়োজন রয়েছে।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের দেওয়া ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি বিবেচনা করছে হিজবুল্লাহ। প্রত্যাশা করা হচ্ছে, এ যুদ্ধবিরতির মধ্য দিয়ে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির দিকে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে। মার্কিন দূত অ্যামস হচস্টেইন দুই পক্ষের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়ে আলোচনা করেছেন। রোববার এক্সিয়সের প্রতিবেদক বারাক রাভিদ একটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানান, অ্যামস হচস্টেইন ওয়াশিংটনে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূতকে জানান যে, ইসরায়েল যদি আসন্ন দিনগুলোতে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে ইতিবাচকভাবে সাড়া না দেয়, তাহলে তিনি আর মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় থাকবেন না। ইসরায়েলের এক কর্মকর্তা জানান, রোববার নেতানিয়াহু ইসরায়েলের নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করেছেন।

সম্প্রতি ইসরায়েল-লেবানন যুদ্ধের তীব্রতা বেড়েছে। গতকালও ইসরায়েল লেবাননের বিভিন্ন শহরে হামলা চালায়। হিজবুল্লাহও ইসরায়েলে কমপক্ষে ৩৪০টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়েছে। এ অবস্থায় লেবাননে নিহতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। শুধু শনিবারই ইসরায়েলের হামলায় ৮৪ জন নিহত হন। আহত হন ২০৩ জন। বৈরুতের একটি ভবনে নিহত হন ৩০ জন। গত ১৬ সেপ্টেম্বরের পর ইসরায়েলের হামলায় এ পর্যন্ত ৩ হাজার ৭২ জন নিহত হয়েছেন; আহত হয়েছেন ১৩ হাজার ৪২৬ জন। গত সপ্তাহে হিজবুল্লাহর নতুন নেতা নাইম কাশেম জানান, তারা যুদ্ধবিরতির জন্য প্রস্তুত। তারা ‘দেশের ভবিষ্যতের বিষয়ে ভাবেছেন।’

এর আগে কয়েকবার গাজায় যুদ্ধবিরতির কাছাকাছি যাওয়ার পর তা আর হয়নি। ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির আলোচনায় অংশগ্রহণকারীদেরই নানা ছলে হত্যা করে। বর্তমানে গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠার আলোচনা চলছে ঢিমেতালে। লেবাননে ইসরায়েল একইভাবে এগোয় কিনা, সেটাই দেখার বিষয়। বিশ্লেষকরা মনে করেন, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তাঁর কট্টর ডানপন্থি সরকার যুদ্ধবিরতি চায় না।

ফিলিস্তিনে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার বরাত দিয়ে আলজাজিরা জানায়, গাজায় পাঁচ লাখের বেশি মানুষ বন্যা ও শীতল আবহাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়ার ঝুঁকিতে আছেন। আর ইউনিসেফ বলছে, চলমান যুদ্ধে গাজার শিশুদের অবস্থা ক্রমেই খারাপের দিকে যাচ্ছে। সংস্থাটির যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ রোসালিয়া বোলেন বলেন, এটা একেবারেই অকল্পনীয় যে, গাজায় শিশুদের অবস্থা ক্রমেই খারাপ থেকে আরও বেশি খারাপের দিকে যাচ্ছে। এ অবস্থায় উত্তর গাজার কামাল আদওয়ান হাসপাতালে হামলার নিন্দা জানিয়েছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান তেদ্রিওস আধানম গেব্রেইসুস।